
স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে অটো ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যে এক অটোচালককে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে হত্যার চেষ্টা করেছে এক সংঘবদ্ধ ছিনতাই চক্র। আজ মঙ্গলবার (২৮ অক্টোবর) দুপুরের দিকে পূর্বাচলের ১৮ নম্বর সেক্টরে এই চাঞ্চল্যকর ঘটনাটি ঘটে। স্থানীয়দের উপস্থিত বুদ্ধি ও তৎপরতায় অল্পের জন্য প্রাণে বেঁচে যান ভুক্তভোগী অটোচালক কাজল।
তিনজনই মিরপুর ১৩ নম্বর এলাকার একই এলাকার বাসিন্দা এবং পূর্বপরিচিত ছিলেন। কাজল পেশায় একজন অটোচালক। শাহজাহান ও তার সহযোগী জয়নাল ওই পরিচয়ের সুযোগ নিয়ে ছিনতাইয়ের ফাঁদে ফেলেন কাজলকে।
প্রাথমিকভাবে অভিযুক্তরা দাবি করে, কাজলের স্ত্রী খালেদা ও শাহজাহানের মধ্যে পরকীয়ার জেরে এই ঘটনা ঘটেছে। তবে তদন্তে পরে জানা যায়, আসল ঘটনা এটি নয় — ছিনতাইয়ের উদ্দেশ্যেই সাজানো হয়েছিল এই ‘প্রেমের নাটক’।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, শাহজাহান ও জয়নাল পরিকল্পনা অনুযায়ী কাজলকে ঘুমের ওষুধ খাইয়ে অচেতন করে সিএনজিতে তুলে পূর্বাচলের নির্জন এলাকায় নিয়ে আসে। সিএনজি চালাচ্ছিল শাহজাহান, আর পেছনের সিটে বসা জয়নাল কাজলের গলায় দড়ি ও গামছা পেঁচিয়ে হত্যার চেষ্টা করছিল।
ঠিক তখনই ওই রাস্তা দিয়ে মোটরসাইকেলে ঘুরতে যাওয়া কয়েকজন যুবক ঘটনাটি চোখে পড়ে দেখে সিএনজি থামায়।
প্রত্যক্ষদর্শী শাওন মিয়া বলেন, আমরা বাইক নিয়ে ঘুরতে বের হয়েছিলাম। একটা সিএনজির মধ্যে দেখি একজন লোক দড়ি দিয়ে বাঁধা, গলায় গামছা প্যাঁচানো। সন্দেহ হওয়ায় থামাইলাম। জিজ্ঞেস করলে ওরা বলে হাসপাতালে নিচ্ছে। পরে দেখি, আসলে ছিনতাই করতে আইছে। তখন আমরা আটকায়া দেই।
এরপর স্থানীয়রা তাদের গণধোলাই দেয় এবং পূর্বাচল আর্মি ক্যাম্পে খবর দেয়। সেনাবাহিনীর সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজলকে উদ্ধার করে প্রাথমিক চিকিৎসার জন্য আশিয়ান হাসপাতালে পাঠান।
পরে সেনাবাহিনী আটক শাহজাহান ও জয়নালকে রূপগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করে।
রূপগঞ্জ থানার পুলিশ জানিয়েছে, এটি একটি সংঘবদ্ধ অটো ছিনতাই চক্র। তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।















