হিজড়াদের গ্রেপ্তার ও মোটরসাইকেল ছিনতায়ের রহস্য উদঘাটনে প্রশংসায় ভাসছে পুলিশ

স্টাফ রিপোর্টার : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে হাইওয়েতে চাঁদাবাজি বন্ধে ১২ হিজড়াকে গ্রেপ্তার ও পূর্বাচলের তিন’শ ফিট সড়কে ব্লগার জিসানের মোটরসাইকেল ছিনতায়ের ঘটনার রহস্য উন্মোচন প্রশংসায় ভাসছে রূপগঞ্জ থানা পুলিশ। ’গ’ সার্কেলের সহকারি পুলিশ সুপার (এএসপি) মেহেদী ইসলাম ও রপগঞ্জ থানার ওসি তরিকুল ইসলামের তৎপরতায় ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন ও হিজড়াদের গ্রেপ্তার করা হয়। এ গুলো সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে পুলিশকে সাধারণ ধন্যবাদ জানান।

জানা গেছে, দীর্ঘদিন ধরে হিজড়ারা কয়েকটি গ্রুপ মিলে রূপগঞ্জের শহীদ ফারহান ফাইয়াজ সেতু, কাঞ্চন ব্রীজ ও ফজুর বাড়ি মোড় এলাকায় সাধারণ মানুষকে হয়রানি করে আসছিল। তাদের চাঁদাবাজির অত্যাচারে সাধারণ মানুষ অতিষ্ট হয়ে পড়েছিল। এছাড়া প্রবাসীদের গাড়ি আটকে হিজড়ারা মোটা অংকের টাকা দাবি করতো। তাদের দাবিকৃত টাকা দিলেই তারা প্রবাসীদের গাড়িতে হামলা ও মারধর করতো। গত ১৫ সেপ্টেম্বর দাবিকৃত টাকা না দেওয়ায় প্রবাসীদের গাড়ি আটকে তাদের মারধর করে। এই ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় একটি অভিযোগ দেওয়া হয়। এ অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযান পরিচালনা করে ফজুর বাড়ি মোড় ও কাঞ্চন ব্রীজ এলাকা থেকে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়। তাদের বিরুদ্ধে চাঁদাবাজির মামলা দায়ের করা হয়। হিজড়াদের গ্রেপ্তারের পর নারায়ণগঞ্জ আদালতে পাঠানো হয়। হিজড়াদের গ্রেপ্তারের পর তাদের গ্রুপের কাউকে শহীদ ফারহান ফাইয়াজ সেতু, কাঞ্চন ব্রীজ ও ফজুর মোড়ে কাউকে অবস্থান করতে দেখা যায়নি। আর এতেই সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে রূপগঞ্জ থানা পুলিশকে ধন্যবাদ জানিয়ে স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা গেছে সাধারণ মানুষকে।

অপরদিকে, সম্প্রতি পূর্বাচলের তিনশ ফিট সড়কে জিসান নামে এক ইউটিউবারের বাইক ছিনতাইয়ের ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে বেশ আলোচিত হয়। ঢাকার মিরপুর থেকে একটি সেকেন্ড হ্যান্ড মোটরসাইকেলে ১১ সেপ্টেম্বর রাত দেড়টার দিকে রূপগঞ্জ থানাধীন সদর ইউনিয়নের পূর্বাচল ৩০০ ফিট গোল চত্বর এলাকায় তার বন্ধু ফয়সাল (২২) নিজ নিজ মালিকানাধীন মোটরসাইকেল যোগে বেড়ানোর উদ্দেশ্যে আসে। পরবর্তীতে রাত ২ টার দিকে কুমিল্লার উদ্দেশ্যে মোটরসাইকেল যোগে রওনা হলে ঢাকা বাইপাস সড়কের কাঞ্চন পৌরসভার কুশাবো এলাকায় পৌঁছলে অজ্ঞাতনামা ৩জন দুষ্কৃতিকারী ভিকটিম জিসানের মোটসাইকেলের গতিরোধ করে থামায়। উক্ত অজ্ঞাতনামা ৩ জন দুষ্কৃতিকারীর মধ্যে ২ জন দুষ্কৃতিকারী তাদের হাতে থাকা ধারালো দা দিয়ে ভিকটিমকে হত্যার উদ্দেশ্যে হাতে কোপ মেরে আঙ্গুলে কাটা রক্তাক্ত জখম করে।

অপর বন্ধু ফয়সাল দুষ্কৃতিকারীদের বাধা প্রদান করিলে তাদের মধ্যে থেকে একজন ফয়সালকে হত্যার উদ্দেশ্যে ধারালো দা দিয়ে এলোপাথাড়ী মাথায়, ডান হাতে কবজীতে কোপ মেরে রক্তাক্ত জখম করে। গত শুক্রবার রাতে ছিনতাইকারী চক্রের মূলহোতা গাজীপুর থেকে লিমননে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। এসময় পুলিশ ছিনতাই হওয়া বাইকটিও উদ্ধার করে।

মোটরসাইকেল ছিনতাইয়ের রহস্য উদঘাটন করায় পুলিশের কাজকে সাধুবাদ জানিয়েছে সাধারণ মানুষ। প্রতিটি ঘটনায় যদি পুলিশ এভাবে তৎপরভাবে কাজ করে তাহলে অপরাধীরা অপরাধ করে পার পাবে না বলে সাধারণ মানুষের দাবি।